ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিদ্রোহ
দি নিউজ লায়ন; ১৮৫৭ সালে যখন ইংরেজদের বিরুদ্ধে সমস্ত সিপাহীরা গর্জে উঠল, তারপর আরও যারা রুখে দাঁড়িয়েছিল তারা হলো কৃষকেরা। যারা ইংরেজদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছিলেন। বলা হয় সিপাহী বিদ্রোহই স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম শুরু। সিপাহীদের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরাও আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। ১৮৫৭ সালে প্রায় ৮৪টি গ্রাম থেকে হাজার হাজার কৃষককে লাঙল- কাস্তে ছেড়ে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে সাহস জুগিয়েছিলেন শাহ মাল। কিন্তু ভারতের অনেক মানুষই কিন্তু এই সমৃদ্ধশালী জমিদারের কথা শোনেনি।
সেই সময়ে সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা ছিলেন রবার্ট হেনরি ওয়ালেস ডানলপ। বিদ্রোহের সময়ে তিনি তার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। শাহ মাল ছিলেন অসম্ভব রকমের সাহসী একজন মানুষ। তিনি অস্ত্র সংগ্রহ করতেন এবং দিল্লিতে বিদ্রোহীদের কাছে সেই অস্ত্র পাঠাতেন। বিদ্রোহের সময় তাঁর নেতৃত্বেই যমুনা নদীর ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে দিল্লিতে ব্রিটিশ হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে মিরাটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। তিন হাজার কৃষক সেদিন তলোয়ার ও বর্শা হাতে লড়াই শুরু করেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাদের বিরুদ্ধে। নেতৃত্বে ছিলেন শাহ মাল।
আর অন্য দিকে ইংরেজদের কাছে ছিল অশ্বারোহী, পদাতিক বাহিনী ও আর্টিলারি রেজিমেন্ট। স্বভাবতই অসম লড়াই। তবু জেদ অধ্যাবসায় আর সাহসের জেরে সেদিন লড়াই করেছিলেন। আর ওই যুদ্ধেই প্রাণ হারান শাহ মাল। শাহ মালের এই ঘটনা ব্রিটিশদের কাছে এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা। আসলে এই নামে তারা কাউকে চিনতেন না। এভাবে ভুঁইফোঁড়ের মতো আচমকা একজন বিদ্রোহ শুরু করবে, যে কিনা হঠাৎ করে এক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহী।
এমনকি ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ঘটনার সাধারণ বর্ণনাতেও লেখা হয়- সিপাহীদের ওই বিদ্রোহ উত্তর ভারতের শাসকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল- সেখানেও শাহ মালের প্রসঙ্গ তেমন ভাবে গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু বিদ্রোহে তিনি বেশ ভালো যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছিলেন। ভারতীয় ইতিহাসবিদদের মতে, সেভাবে তাঁকে লোকে চেনেনি সেইসময়। অথচ তাঁর নেতৃত্বে ইংরেজ সাম্রাজ্যে ভয় দেখা গিয়েছিল। সিপাহী বিদ্রোহের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশই ছিল ভারতের কৃষকেরা, অথচ তাদের অবদান ইতিহাসে তেমনভাবে তুলে ধরা হয়নি।

Post a Comment